প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় পাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি বাংলাদেশ। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর ৭ রানের ব্যবধানে পরাজয় বরণ করে স্বাগতিকরা। ফলে একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ছিল বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক। দুই উদ্বোধনী ব্যাটারের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকে দল। শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান। তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শক্ত ভিত গড়ে ওঠে। তবে দারুণ শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তানজিদ। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩০ রান করে ফিরে গেলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
এরপর ক্রিজে এসে কিছুটা দ্রুতগতির ব্যাটিং করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি সৌম্য সরকার। অন্যদিকে সাইফ হাসান নিজের ছন্দ ধরে রেখে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাকে সঙ্গ দেন পারভেজ হোসেন ইমন। দুজনের জুটিতে আবারও জয়ের আশা জাগে বাংলাদেশের শিবিরে। তবে ইমন বিদায় নেওয়ার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে ফিরে যান সাইফও। এতে চাপে পড়ে যায় দল।
মধ্যক্রমে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি পরের ব্যাটাররা। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে জয়ের পথ কঠিন হয়ে পড়ে বাংলাদেশের জন্য। শেষদিকে তাওহিদ হৃদয় দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে আশা জাগান। তবে প্রয়োজনীয় রান তুলতে না পারায় তার লড়াকু ইনিংসও দলকে জয় এনে দিতে পারেনি।
বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। উনিশতম ওভারে কিছুটা রান এলেও শেষ ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ২৩ রানে। শেষ মুহূর্তে কয়েকটি চমৎকার শট খেলে লড়াই জমিয়ে তুলেছিলেন হৃদয় ও সাকলাইন। কিন্তু প্রয়োজনীয় রান না আসায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিকদের।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে ধাক্কা খেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। নতুন বলে দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে দ্রুত তিন ব্যাটারকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। একসময় সফরকারীদের সংগ্রহ ছিল তিন উইকেটে মাত্র ৪৪ রান।
সেই বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধার করেন ম্যাট রেনশো ও টিম ডেভিড। দুজনের কার্যকর জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড বিদায় নিলেও রেনশো শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করেন। তার অসাধারণ ব্যাটিংই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন নাসুম আহমেদ। এছাড়া নাহিদ রানা, আব্দুল গাফফার সাকলাইন এবং মুস্তাফিজুর রহমানও একটি করে উইকেট তুলে নেন। তবে শেষ পর্যন্ত রেনশোর দৃঢ়তা এবং অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কাছে হার মানতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
সিরিজ হারলেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের কিছু ইতিবাচক পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশার বার্তা হয়ে থাকছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট হারানো এবং মধ্যক্রমের ব্যর্থতাই ম্যাচে বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।



