প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণের সিরিজের প্রথম লড়াইয়ে শুরুটা আশাব্যঞ্জক হলেও শেষ পর্যন্ত বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটির ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে একসময় বড় পুঁজি গড়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও মাঝের ভাগে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। শেষ দিকে মেহেদী হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে ভর করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ওভারের আগেই ১৩১ রানে অলআউট হয়।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নতুন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। জাতীয় দলের নেতৃত্বে এটিই ছিল তাঁর প্রথম ম্যাচ। দলে সুযোগ পান নতুন মুখ আব্দুল গাফফার সাকলায়েন এবং উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন পারভেজ হোসেন ইমন।
বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটার শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। দ্রুত রান তুলতে থাকায় বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত মিলছিল। তবে দলীয় ২৭ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারানোর পর ছন্দে কিছুটা ভাটা পড়ে। এরপর সাইফ হাসানও ভালো শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি।
নতুন অধিনায়ক হৃদয় মাঠে নেমেই দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করেন। প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করেন তিনি। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বেশিদূর এগোয়নি। তাঁর বিদায়ের পর একে একে ফিরে যান সৌম্য সরকার, পারভেজ হোসেন ইমন ও শামীম হোসেন। ফলে রান উঠলেও নিয়মিত উইকেট পতনে বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে ওঠেনি।
নতুন মুখ আব্দুল গাফফার সাকলায়েন কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। এক পর্যায়ে মাত্র ৮৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। পরে রিশাদ হোসেন দ্রুত কিছু রান যোগ করলেও ইনিংস দীর্ঘায়িত করতে ব্যর্থ হন।
দলের কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন মেহেদী হাসান। নিচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে যান। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে মূল্যবান রান যোগ করেন। তাদের সংক্ষিপ্ত কিন্তু কার্যকর জুটি বাংলাদেশের সংগ্রহকে একশ ত্রিশের ঘরে পৌঁছে দেয়।
শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান ২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। সাইফ হাসান করেন ২০ রান। এছাড়া পারভেজ হোসেন ইমন ও আব্দুল গাফফার সাকলায়েনের ব্যাট থেকে আসে ১০ রান করে।
ফলে ম্যাচ জিততে অস্ট্রেলিয়ার সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩২ রান। এখন জয় পেতে হলে বাংলাদেশের বোলারদের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখানোর বিকল্প নেই। ব্যাট হাতে প্রত্যাশা পূরণ না হলেও স্বাগতিকদের আশা এখন পুরোপুরি বোলিং বিভাগের ওপরই নির্ভর করছে।



