প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে নাটকীয় লড়াইয়ে পরাজিত করে ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় অধ্যায় রচনা করেছে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে দুই দল ১-১ গোলে সমতায় থাকলেও ভাগ্য নির্ধারণী শটের লড়াইয়ে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটি। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর পুরো দেশে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। বিজয়ের আনন্দকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা ৩০ জুন দেশজুড়ে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়, জার্মানির বিপক্ষে জাতীয় দলের স্মরণীয় জয় উদযাপন এবং খেলোয়াড়দের অসাধারণ সাফল্যের প্রতি সম্মান জানাতেই এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন শহরে হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। জাতীয় পতাকা হাতে বিজয় মিছিল, গান এবং উদযাপনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো দেশ।
এই জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক ওরল্যান্ডো গিল। ভাগ্য নির্ধারণী শটের লড়াইয়ে তিনি প্রতিপক্ষের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট রুখে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন। ম্যাচ শেষে গিল বলেন, জার্মানির মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে প্যারাগুয়ে বড় দলগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার সামর্থ্য রাখে।
পুরো ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণের দিক থেকে জার্মানি এগিয়ে থাকলেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সেই আধিপত্য কাজে লাগাতে পারেনি ইউরোপের শক্তিশালী দলটি। গিল আরও জানান, প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ সামলানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবে শেষ পর্যন্ত সতীর্থদের আত্মত্যাগ, ধৈর্য এবং দৃঢ় মনোবলের ফলেই জয় এসেছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বসেরা গোলরক্ষকদের একজন ম্যানুয়েল নয়্যারের বিপক্ষে একই ভাগ্য নির্ধারণী শটের লড়াইয়ে অংশ নেওয়া তার জন্য ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা। এই জয়কে তিনি শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং প্যারাগুয়ের ফুটবলের নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখছেন। দেশটির ফুটবলপ্রেমীরাও বিশ্বাস করছেন, এই সাফল্য ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্যারাগুয়েকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।



