প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসিকে একসময় নিজেদের জাতীয় দলে খেলানোর চেষ্টা করেছিল স্পেন। দীর্ঘ সময় দেশটির ফুটবল ব্যবস্থার অধীনে বেড়ে ওঠায় স্পেনের পক্ষ থেকে তাকে জাতীয় দলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করে নিজের জন্মভূমি আর্জেন্টিনার জার্সি পরার সিদ্ধান্তেই অটল থাকেন তিনি।
শৈশবেই ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ার উদ্দেশ্যে মেসি স্পেনে পাড়ি জমান। সেখানে একটি শীর্ষস্থানীয় ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলে খেলে দ্রুত নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। পরবর্তীতে স্পেনের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষ তাকে জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়। কিন্তু মেসির কাছে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অনুভূতি ছিল সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বিশ্বমঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখেছেন। তাই অন্য কোনো দেশের হয়ে খেলার প্রশ্নই ওঠে না। নিজের শিকড়, পরিবার এবং দেশের প্রতি ভালোবাসার কারণেই তিনি স্পেনের আকর্ষণীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দল হয়ে তিনি জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। এরপর একের পর এক সাফল্যে নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় লিখে ফেলেন। দেশের হয়ে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পাশাপাশি বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবও অর্জন করেন তিনি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতে কোটি কোটি সমর্থকের স্বপ্ন পূরণ করেন এই কিংবদন্তি।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির এই সিদ্ধান্ত শুধু একজন খেলোয়াড়ের পেশাগত পছন্দ ছিল না, বরং এটি ছিল নিজের দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার অনন্য উদাহরণ। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে জাতীয় পরিচয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা আজও ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অনেক খেলোয়াড় ভিন্ন দেশের জার্সি বেছে নিলেও মেসি নিজের শেকড়ের প্রতি অনড় ছিলেন। তার এই সিদ্ধান্ত নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছেও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে রয়েছে। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার গর্ব যে কোনো ব্যক্তিগত সুযোগের চেয়েও বড় হতে পারে, মেসির পথচলা সেই বার্তাই তুলে ধরে।



