প্রকাশিত: জুলাই ২৯, ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনায় নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রীড়াবিষয়ক প্রধান গ্লেন মিকাল্লেফ এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার ভাষায়, ফুটবলকে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক স্বার্থের হাতে তুলে দিলে খেলাটির মৌলিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ফুটবলের আর্থিক উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেটি এমনভাবে হতে হবে যাতে খেলার স্বকীয়তা, প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা এবং ক্রীড়ার মূল চেতনাকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না করে। তার মতে, শুধুমাত্র মুনাফার লক্ষ্য সামনে রেখে নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ফুটবলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অংশীদারত্ব দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের সুযোগ রাখা হতে পারে। যদিও ফিফা জানিয়েছে, প্রতিযোগিতা পরিচালনা, নিয়ম প্রণয়ন এবং ফুটবলসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছেই থাকবে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এই ধরনের কাঠামো ভবিষ্যতে স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, আর্থিক বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ যদি নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তাহলে ক্রীড়া পরিচালনায় স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ফিফার এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল প্রশাসনিক সংস্থাও। তাদের দাবি, বিশ্বকাপের মতো ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতাকে কেবল বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও বিস্তৃত আলোচনা এবং পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে সমালোচনার জবাবে ফিফা জানিয়েছে, নতুন কাঠামোর উদ্দেশ্য ফুটবলের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিযোগিতাগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সংস্থাটি আরও বলেছে, ফুটবল পরিচালনার নীতিগত ও ক্রীড়াবিষয়ক সব ধরনের সিদ্ধান্ত আগের মতোই ফিফার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর আগে স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং ক্রীড়ার স্বার্থ রক্ষার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



