প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
ডারউইন টেস্টে চতুর্থ দিনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে ঐতিহাসিক জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ। দিনের শুরু থেকেই মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি আক্রমণে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে স্বাগতিক দল এখন বড় বিপর্যয়ের মুখে। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে চলে এসেছে।
চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে বেশ অস্বস্তিতে দেখা যায়। বিশেষ করে মিরাজ নিজের ঘূর্ণি দিয়ে স্বাগতিক ব্যাটারদের ওপর তীব্র চাপ তৈরি করেন। দিনের প্রথম ঘণ্টাতেই তিনি জোড়া আঘাত হেনে অস্ট্রেলিয়ার রান তোলার গতি থামিয়ে দেন।
ম্যাচের ৬০তম ওভারে সেট ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারিকে সাজঘরে ফেরান মিরাজ। ৭২ বলে ৩০ রান করা ক্যারি মিরাজের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। এরপর ৬৭তম ওভারে মিরাজের শিকার হন বেউ ওয়েবস্টার। মাত্র ৫ রান করে তিনি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। মিরাজের বলের গতিপথ ভুল বুঝে সামনে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ব্যাটার পরাস্ত হন।
এরপরও থামেনি মিরাজের আক্রমণ। অস্ট্রেলিয়া তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গেলে অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও ক্যামেরন গ্রিন দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে স্বাগতিকদের জন্য রান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অস্ট্রেলিয়ার দলীয় সংগ্রহ ২০০ রান পার করার পরও তারা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। ফলে ম্যাচে বড় লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হলে অস্ট্রেলিয়ার নিচের সারির ব্যাটারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার প্রয়োজন ছিল।
তবে ৭৪তম ওভারের শেষ বলে আবারও সফল হন মিরাজ। তাঁর করা বলে শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা সাদমান ইসলাম দারুণ ক্যাচ নিয়ে প্যাট কামিন্সকে বিদায় করেন। ৮ রান করে ফেরেন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক। এই উইকেটটি ছিল মিরাজের ইনিংসে চতুর্থ এবং দিনের তৃতীয় শিকার।
কামিন্সের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার আরও চাপে পড়ে যায়। ৮১ ওভার শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২২৯ রান। ক্যামেরন গ্রিন ৭৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। তাঁর সঙ্গে নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে রয়েছেন মিচেল স্টার্ক।
ম্যাচের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া কতটা লিড নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্য। তবে মিরাজের দুর্দান্ত বোলিং এবং দলের সামগ্রিক নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে বহু প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।



