প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে মাত্র ৬৪ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
ম্যাকাইয়ের টেস্ট অভিষেকের দিন শুরু থেকেই বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দেন স্টার্ক। ইনিংসের প্রথম বলেই সাদমান ইসলাম ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেন অস্ট্রেলীয় পেসার। শেষ পর্যন্ত হ্যাটট্রিক না হলেও বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে একের পর এক আঘাত হানতে থাকেন তিনি।
প্রথম পাঁচ উইকেটই শিকার করেন স্টার্ক। মুমিনুল হক ৯ রান করে ফেরার পর লিটন দাসকে শূন্য রানে ফিরিয়ে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। পরে শরীফুল ইসলামকেও আউট করে নিজের শিকার সংখ্যা ছয়ে নিয়ে যান এই বাঁহাতি পেসার।
অন্য প্রান্তে মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। তবে ৪২ বল খেলে মাত্র ৫ রান করার পর প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
লাঞ্চের আগে ৬ উইকেটে ৩৫ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। বিরতির পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। মিরাজ ১১ রানে ফিরলে দ্রুত সাজঘরে ফেরেন হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শেষ উইকেটে দুজন মিলে ২৫ রান যোগ করেন, যা বাংলাদেশের ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি।
শরীফুল ১৪ রান করে আউট হলে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৬৪ রানে। তাইজুল ইসলাম ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। দলের পক্ষে শরীফুলের ১৪ রানই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।
স্টার্ক মাত্র ২২ বল খরচ করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। বলের হিসাবে দ্রুততম পাঁচ উইকেট শিকারের তালিকায় এটিও তার অন্যতম সেরা বোলিং। তবে তার নিজের রেকর্ড আরও দুর্দান্ত—এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলেই পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে ডারউইন টেস্টে জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে নামা বাংলাদেশ এমন ভয়াবহ ব্যাটিং ধসের মুখে পড়বে, তা ছিল অপ্রত্যাশিত। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩ রানে অলআউট হওয়াই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।



