প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে পুরোনো স্মৃতিকে নতুন কীর্তিতে রাঙালেন বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। যে মাঠে দাঁড়িয়ে ২০২০ সালে যুব বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের আনন্দে মেতেছিল বাংলাদেশ, সেই একই মাঠে এবার লাল বলের ক্রিকেটে ব্যাট হাতে অসাধারণ এক দ্বিশতক তুলে নিয়েছেন তিনি। নিজের দুর্দান্ত ইনিংসের পর সেই স্মৃতিময় ভেন্যুর কথা মনে করে আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন হৃদয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিনেই নিজের সামর্থ্যের জানান দেন এই ডানহাতি ব্যাটার। দিনের শুরুতে ৭৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন তিনি। এরপর ধৈর্য ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দারুণ সমন্বয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে পূর্ণ করেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের চতুর্থ শতক। সেখানেই থামেননি তিনি; ইনিংসকে আরও বড় করার পথে এগিয়ে গিয়ে স্পর্শ করেন কাঙ্ক্ষিত দুইশ রানের মাইলফলক।
হৃদয়ের এই ইনিংসটি আসে ৩৩৫ বল মোকাবিলা করে। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো দ্বিশতকের দেখা পেলেন এই ব্যাটার।
বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ব্যাটারদের দ্বিশতকের তালিকাতেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন হৃদয়। সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের পর বিদেশের মাটিতে লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিশতক করা তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি।
হৃদয়ের এই অসাধারণ ইনিংসের পেছনে সতীর্থদের অবদানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তার সঙ্গে ব্যাটিং করে জাকের আলী ৯৪ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। মাত্র ছয় রানের জন্য শতকের দেখা পাননি তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও ব্যাট হাতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। তিনি করেন ৮৭ রান।
স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দল প্রথম ইনিংসে ৫১২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। জবাবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৪৭১ রান সংগ্রহ করেছে। ফলে ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান নায়ক হয়ে উঠেছেন হৃদয়।
দ্বিশতক করার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হৃদয় ফিরে যান কয়েক বছর আগের সেই গৌরবময় স্মৃতিতে। বগুড়ায় তার লাল বলের ক্রিকেটে পথচলা শুরু হওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই মাঠে একসময় বিশ্বজয়ের আনন্দ আর এবার সেই মাঠেই ব্যক্তিগত বড় অর্জন—দুই স্মৃতিকে একই সুতোয় বেঁধেছেন বাংলাদেশের এই তরুণ ক্রিকেটার।
হৃদয়ের এই দ্বিশতক শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি। একই সঙ্গে দেশের ক্রিকেটে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন তিনি।



