রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশজুড়ে বেপরোয়া কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২৬, ১০:২১ এএম

দেশজুড়ে বেপরোয়া কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য

প্রতীকী ছবি

রাজধানীসহ সারা দেশে কিশোরদের সংঘবদ্ধ অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য এমনকি হত্যাকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করলেও অপরাধের বিস্তার শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েক বছর আগেও কিশোরদের মধ্যে এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধপ্রবণতা এতটা ছিল না। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরাও অসহায় হয়ে পড়ছেন। প্রতিবাদ করতে গিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটছে। কিশোরদের জন্য প্রচলিত আইনের নমনীয়তার সুযোগ নিয়ে অনেকেই দ্রুত জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গুরুতর অপরাধে গ্রেফতারের পরও অল্প সময়ের মধ্যেই এসব কিশোর অপরাধী এলাকায় ফিরে এসে আবার তৎপরতা শুরু করে। এতে তাদের মধ্যে দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি হচ্ছে এবং অপরাধে জড়াতে উৎসাহ পাচ্ছে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্তি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। তারা নৃশংস অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে, যা জাতির ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কিশোরদের ব্যবহার করে মাদক বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা যেমন মোহাম্মদপুর, বছিলা, রায়েরবাজার, মিরপুর, পল্লবী, উত্তরা, বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা, লালবাগসহ বহু স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেশি। এক মাসে সহস্রাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করা হলেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাং সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পৃষ্ঠপোষকদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নতুন সরকারও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশব্যাপী তালিকা প্রণয়ন এবং অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন জেলাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে খুন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে বিপুল সংখ্যক কিশোর জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এ সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!