রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মশাল মিছিলে ফুঁসে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

মশাল মিছিলে ফুঁসে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত ব্যক্তি বহিরাগত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন এবং প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম আবর্তনের এক নারী শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে সংঘটিত এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাত থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শুধু নারী শিক্ষার্থীরাই নয়, বিভিন্ন বিভাগের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

রাত প্রায় ১০টার দিকে ছাত্রী হল এলাকা থেকে মশাল হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘুরে পুরাতন নিবন্ধক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া, অভিযুক্তের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করেই তারা স্লোগান দেন। পুরো এলাকা তখন উত্তেজনা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ভাষায় মুখর হয়ে ওঠে।

প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন বিশেষ করে প্রক্টরিয়াল টিম নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা বেড়ে চলেছে।

শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, বর্তমান প্রক্টরের দায়িত্বকালেও একাধিক গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। তবুও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। এ কারণে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি এখন শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিতে পরিণত হয়েছে।

প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার স্থান নয়, এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয়ও হওয়া উচিত। অথচ সেখানে যদি নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপদ না থাকেন, তবে সেটি পুরো প্রশাসনের ব্যর্থতা।

শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেপ্তার ও প্রকাশ্য বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে তারা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর আন্দোলনে যাবেন তারা।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন হল ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা মিছিলের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। ফলে পুরো ক্যাম্পাসে এক ধরনের প্রতিবাদী পরিবেশ তৈরি হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি দুর্বল। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা টহল না থাকায় নারী শিক্ষার্থীরা ভয়ের মধ্যে চলাফেরা করেন। তারা বলেন, শুধু ঘটনার পর বিবৃতি দিলেই হবে না, স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী জানান, তারা কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেই আন্দোলনে নেমেছেন। কারণ এটি কেবল একজন শিক্ষার্থীর ঘটনা নয়, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার প্রশ্ন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা তাতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। তাদের ভাষ্য, আগের অনেক ঘটনাতেও তদন্তের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৃশ্যমান বিচার হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করাও তাদের প্রধান দায়িত্ব। যদি একজন শিক্ষার্থীও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে সেটি পুরো ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক।

গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি চলতে থাকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তারা।

এই ঘটনার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিরাপত্তা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এখন শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!