প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সিন্ডিকেট সভায় এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলন চলাকালে বিতর্কিত মন্তব্য, শিক্ষার্থীদের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দায়িত্ব পালনে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার অভিযোগ তদন্ত ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনজন শিক্ষক এবং একজন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও পৃথক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য, আন্দোলনকারীদের প্রতি বিরূপ আচরণ এবং শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়ও রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেটে উপস্থাপন করা হয়। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠায় তাকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটির সুপারিশের পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন তথ্য বা অভিযোগের ভিত্তিতে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ এবং শিক্ষাঙ্গনে দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।



