প্রকাশিত: জুলাই ১, ২০২৬, ১০:৩১ এএম
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠগুলোর অন্যতম এবং ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০৫ বছর পূর্ণ করে ১০৬ বছরে পদার্পণ করেছে। শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জাতীয় নেতৃত্ব গঠনে দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসা এই প্রতিষ্ঠান বুধবার নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে।
এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল থেকেই শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, অর্থনীতি, প্রশাসন, বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান আরও উন্নত করতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সাবেক শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপাচার্যের নেতৃত্বে স্মৃতি চিরন্তন চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। পরে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলগুলোর পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা করা হয়। একই সঙ্গে কেক কাটা, জাতীয় সংগীত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সংগীত এবং রবীন্দ্র ও নজরুলসংগীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়। বিদেশি শিক্ষার্থীরাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন।
এরপর ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উচ্চশিক্ষা, গণতন্ত্র, গবেষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে বিশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বিকেলে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে পৃথক এক আলোচনা অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদরা অংশ নিয়ে উচ্চশিক্ষার বর্তমান চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
১৯২১ সালে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে উচ্চশিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের জ্ঞানচর্চার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান দেশের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।
বিশ্লেষকদের মতে, শতবর্ষ পেরিয়ে নতুন যাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সাবেক শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা কাজে লাগাতে পারলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়টি আরও সমৃদ্ধ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।



