প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক পাতা, দল এবং ব্যক্তিগত পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ছবি, ভিডিও এবং ব্যক্তিগত তথ্য বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব প্রকাশনার মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে অশোভন মন্তব্য, ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষা এবং মানসিক হয়রানির ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ সাইবার হয়রানি চক্রের কাজ। বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও মানসিকভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব বিষয় দ্রুত বিভিন্ন ব্যবহারকারীর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে আপত্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে তারা চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করে দিয়েছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হতে পারে।
একজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আনা হলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে কিছুটা সময় লেগেছে। এতে তার মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। তিনি দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পরিচয়গুলো শনাক্তের কাজ চলছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রক্টরিয়াল দপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন যেকোনো কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইবার পরিসরে কাউকে যৌন হয়রানি, মানহানি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তাই দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনলে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহল মনে করছেন, শুধু কয়েকটি আপত্তিকর প্রকাশনা সরিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়। সংঘবদ্ধভাবে পরিচালিত এই সাইবার হয়রানি চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করাও এখন সময়ের দাবি।



