প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নীলদলের ২৩১ জন শিক্ষককে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী শিক্ষকরা। একই সঙ্গে তারা অভিযুক্ত বলে দাবি করা শিক্ষকদের একটি তালিকাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকদের দাবি, অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তালিকাভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্মারকলিপির সঙ্গে জমা দেওয়া তালিকায় মোট ২৩১ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। তালিকায় অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং অবসরপ্রাপ্ত ও ইমেরিটাস অধ্যাপকদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কলা, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, সমাজবিজ্ঞান, আইন, প্রকৌশল, চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষণাসহ প্রায় সব অনুষদের শিক্ষক রয়েছেন।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ, জবাবদিহি এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকারী শিক্ষকদের মতে, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যদি অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকে, তবে তা যথাযথভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিমূলক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা মন্তব্য জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, স্মারকলিপিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক মনে করছেন, এত বড় সংখ্যক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় বিষয়টি এখন উচ্চশিক্ষাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাদের মতে, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত যেমন জরুরি, তেমনি অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও সমানভাবে প্রয়োজন। এতে করে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে যেকোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে। এতে শিক্ষাঙ্গনে আস্থা ও সুশাসন আরও সুদৃঢ় হবে।



