প্রকাশিত: মে ১৩, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
৫০ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন আলোচিত কনটেন্ট নির্মাতা তানভীর রাহী। বুধবার (১৩ মে) ঢাকার একটি মেট্রোপলিটন আদালত শুনানি শেষে তাকে জামিন প্রদান করেন।আদালত সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে পাঁচশ টাকা মুচলেকার বিনিময়ে জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদালতে সমঝোতার শর্তের কথাও উল্লেখ করা হয়।
মামলার শুনানির দিন তানভীর রাহী নিজে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তার পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আবেদন গ্রহণ করে তাকে জামিনে মুক্তির অনুমতি দেন।
মামলার নথিপত্রে উল্লেখ করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৭ আগস্ট ৩০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে ফাহিমা নামের এক নারীর সঙ্গে তানভীর রাহীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন কারণে দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের পর তানভীর রাহী একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনার কথা উল্লেখ করে স্ত্রীর পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করতে থাকেন। এই দাবি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ওই টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে ফাহিমাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করলে পুলিশের পরামর্শে পরবর্তী সময়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
অভিযোগের ধারাবাহিকতায় বলা হয়, একই বছরের ১ মার্চ রাতে রাজধানীর আজিমপুর এলাকায় ভুক্তভোগী নারী এবং তার মায়ের উপস্থিতিতে আবারও যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। সেখানে টাকা না দিলে বিবাহ বিচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয় এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী আদালতের শরণাপন্ন হয়ে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদালতে গড়ালে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
আইনজীবীরা জানান, আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে জামিন দিলেও মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। উভয় পক্ষই পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
এদিকে এই মামলাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই বিষয়টি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন, আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা নিয়েও মতামত দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে আলোচিত এই মামলার পরবর্তী অগ্রগতি এখন সবার নজরে রয়েছে।



