প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ০৯:৩৩ এএম
সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা সেন’ মুক্তিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে প্রযোজনা ও আর্থিক জটিলতা নিয়ে। একদিকে নির্মাতারা ঈদে ছবিটি মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে সহ-প্রযোজকের অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফলে মুক্তির আগেই ছবিটি ঘিরে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও বিতর্কের পরিবেশ।
চলচ্চিত্রটি ২০২১–২২ অর্থবছরে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন কারণে এর নির্মাণ ও মুক্তি পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে ছবিটি মুক্তির ঘোষণা দিলে নতুন করে আলোচনায় আসে এটি। তবে সেই ঘোষণার পরপরই সহ-প্রযোজক পক্ষ থেকে অর্থ লেনদেন ও প্রযোজনা স্বত্ব নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।
সহ-প্রযোজক হিসেবে যুক্ত তরুণ মজুমদার দাবি করেন, তিনি চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজে ধাপে ধাপে মোট একান্ন লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। তার অভিযোগ, শুরুতে সবকিছু স্বচ্ছ থাকলেও পরবর্তীতে তাকে প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি সেন্সর বোর্ডে জমা দেওয়ার সময় তার নাম যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে চল্লিশ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে আরও একুশ লাখ টাকা প্রদান করেন, যা মোট একান্ন লাখ টাকায় দাঁড়ায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগে জটিলতা তৈরি হয় এবং টাকা ফেরতের বিষয়ে অনাগ্রহ দেখা দেয় বলে তার দাবি। শেষ পর্যন্ত অর্থ ফেরত না পাওয়ায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে চলচ্চিত্রটির নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বল এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এটি একটি ব্যবসায়িক চুক্তির ভিত্তিতে শুরু হওয়া প্রকল্প, যেখানে নির্ধারিত নিয়ম ও কাঠামো অনুসরণ করা হয়েছে। তার ভাষায়, সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্রে মূল প্রযোজক হিসেবে অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামই প্রধান হিসেবে থাকে, তাই ভিন্ন দাবি ভিত্তিহীন।
তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্র প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর অর্থ ফেরতের দাবি তোলা হয়, যা প্রকল্পের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার মতে, মুক্তির ঠিক আগে এ ধরনের অভিযোগ তোলা দুঃখজনক এবং এটি সিনেমার পরিবেশকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল করে তুলছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই চলচ্চিত্রটি আবারও আলোচনায় এসেছে এর সাহিত্যিক ভিত্তির কারণে। কবি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত কবিতার চরিত্র অবলম্বনে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাবিলা। জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে দেখা যাবে খায়রুল বাসারকে। এছাড়া গাজী রাকায়েত, সোহেল মণ্ডল এবং প্রিয়ন্তী উর্বীর মতো অভিনয়শিল্পীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিকে শিল্পনির্ভর নির্মাণ, অন্যদিকে আর্থিক ও স্বত্ব নিয়ে বিরোধ—এই দুইয়ের কারণে মুক্তির আগেই ‘বনলতা সেন’ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এখন আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে ছবিটির চূড়ান্ত মুক্তি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ঈদে মুক্তির পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। ফলে দর্শক মহলে কৌতূহল থাকলেও পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল বলা যাচ্ছে না।



