প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত বলিউড সিনেমা ‘দেবদাস’ মুক্তির পর থেকেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সঞ্জয়লীলা বানসালি পরিচালিত এই সিনেমার গান, অভিনয় এবং নির্মাণশৈলী আজও দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। এর মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত গানের একটি হলো ‘ডোলা রে ডোলা’, যেখানে একসঙ্গে নাচে মেতে উঠেছিলেন মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাই।
সম্প্রতি এই গানের শুটিং নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন প্রয়াত নৃত্য পরিচালক সরোজ খানের সহকারী রুবিনা খান। তার বক্তব্য ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে সেই জনপ্রিয় গানের পেছনের পরিশ্রম ও কষ্টের গল্প।
রুবিনা খান জানান, ‘ডোলা রে ডোলা’ গানের শুটিং চলাকালীন সময় মাধুরী দীক্ষিত অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তবে সেই অবস্থাতেও তিনি পুরো শুটিং সম্পন্ন করেছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ধৈর্যের সঙ্গে।
তিনি আরও জানান, গানের শুটিং শেষ করতে সময় লেগেছিল প্রায় ১৭ দিন। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে রিহার্সাল ও শুটিং চলত। অনেক সময় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করতে হতো পুরো টিমকে।
গানের একটি বিশেষ দৃশ্য ছিল, যেখানে নাচ শেষে দ্রুত ঘুরে এসে মাটিতে বসতে হতো মাধুরী দীক্ষিতকে। এই একটি শট নেওয়ার জন্যই নাকি প্রায় ১৩ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। বারবার চেষ্টা করেও নিখুঁতভাবে দৃশ্যটি ধারণ করা যাচ্ছিল না।
রুবিনার ভাষায়, অন্তঃসত্ত্বা থাকার কারণে মাধুরীর শারীরিক অবস্থাও সবসময় স্বাভাবিক ছিল না। কখনো মাথা ঘোরা, কখনো শরীর খারাপ লাগা—এসব সমস্যার মধ্যেও তিনি শুটিং বন্ধ করেননি। বরং ধৈর্য ধরে পুরো দৃশ্য শেষ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, মাধুরী দীক্ষিত কখনোই নাচের স্টেপ পরিবর্তনের অনুরোধ করেননি। গুরু সরোজ খানের নির্দেশনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি প্রতিটি দৃশ্য নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছেন।
তার মতে, নিজের কাজের প্রতি অসাধারণ নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের কারণেই মাধুরী দীক্ষিত আজও দর্শকের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছেন।
‘দেবদাস’ সিনেমাটি মুক্তির পর বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শাহরুখ খান, মাধুরী দীক্ষিত এবং ঐশ্বরিয়া রাই। তাদের অভিনয়, বিশেষ করে গানের দৃশ্যগুলো, সিনেমাটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
‘ডোলা রে ডোলা’ গানটি আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নৃত্যনির্ভর গান হিসেবে বিবেচিত হয়। দুই তারকার যুগলবন্দি, কোরিওগ্রাফি এবং সেট ডিজাইন মিলিয়ে গানটি দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলে।
নতুন এই তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাধুরী দীক্ষিতের পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতা নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই ধরনের নিষ্ঠাই একজন শিল্পীকে কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছে দেয়।



