প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
নেত্রকোনায় পনেরো বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট নির্মাতা মো. রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর গোপন তথ্য ও গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মহিষারন এলাকার অচিন্তপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্ত একই এলাকার বাসিন্দা এবং প্রতিবেশী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ হওয়ায় সেই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভিডিও নির্মাণের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন রিপন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় তাকে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়া হতো বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই রাতে জরুরি কথা বলার অজুহাতে কিশোরীকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার সময় কিশোরীর বাবা বাজারে এবং মা বাইরে কাজে ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে কিশোরীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নেত্রকোনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনার পর এলাকায় একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয় এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বলে জানা গেছে। তবে এসব বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রিপন মিয়া পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও নির্মাণ করে পরিচিতি লাভ করেন। তার পরিচালিত একটি জনপ্রিয় পৃষ্ঠায় প্রায় উনিশ লাখ অনুসারী রয়েছে।



