প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
দুর্যোগে বিপর্যস্ত নেপাল ও তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারগুলোর সহায়তায় বড় অঙ্কের অর্থ অনুদান দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় গায়ক লি নো। তিনি ১০ কোটি কোরিয়ান ওন দান করেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৯০ লাখ টাকার সমপরিমাণ। তার এই অনুদান দুর্যোগে ঘরবাড়ি হারানো এবং সংকটে পড়া মানুষের জরুরি সহায়তায় ব্যবহৃত হবে।
রোববার (৩০ আগস্ট) লি নোর পক্ষ থেকে তার এ অনুদানের তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ২৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার দক্ষিণ কোরিয়া শাখার মাধ্যমে অর্থটি পাঠানো হয়। হিমবাহধসের কারণে নেপাল ও তিব্বতের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতেই এ অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
অনুদানের বিষয়ে লি নো জানান, কঠিন সময় পার করা মানুষের জন্য তার সামান্য অবদানও যদি কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে, সেটিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো দ্রুত নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে যারা কাজ করছেন, তাদের প্রচেষ্টার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান এই গায়ক।
দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল স্ট্রে কিডসের সদস্য লি নো শুধু সংগীতের জন্যই পরিচিত নন, মানবিক কর্মকাণ্ডেও তার সক্রিয়তা রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন দুর্যোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাণীকল্যাণমূলক কাজে নিয়মিত অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি।
২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট মোকাবিলায় পরিচালিত একটি কর্মসূচিতে তিনি ১০ কোটি কোরিয়ান ওন অনুদান দেন। ওই অনুদানের মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট দাতব্য সংস্থার অন্যতম সম্মানজনক দাতা স্বীকৃতি অর্জন করেন। ওই স্বীকৃতির তালিকায় তিনিই সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য হিসেবে জায়গা করে নেন।
এরপর ২০২৫ সালেও একাধিক মানবিক উদ্যোগে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা করেন লি নো। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা ও সহায়তার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার একটি হাসপাতালকে ১০ কোটি ওন দেন। একই বছর পরিত্যক্ত বিড়ালের চিকিৎসা, আশ্রয় ও পরিচর্যার জন্য কাজ করা একটি সংগঠনকেও আরও ১০ কোটি ওন অনুদান দেন তিনি।
এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায়ও অর্থ দেন লি নো। হংকংয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের পর পরিচালিত ত্রাণ কার্যক্রমেও তিনি তার সংগীতদলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে অর্থ সহায়তা করেন।
বারবার বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে লি নোর মানবিক কর্মকাণ্ড ভক্তদের মধ্যেও প্রশংসা পেয়েছে। এবার নেপাল ও তিব্বতের দুর্যোগে তার দেওয়া অর্থ দুর্গত শিশু ও পরিবারগুলোর প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে।



