হাসনাত জিসান
প্রকাশিত: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
ফাইল ছবি
রসালো তরমুজের ঠান্ডা লাল শাঁস মুখে দিলেই যেন শরীর-মন জুড়িয়ে যায়। প্রতিটি কামড় গরমের ক্লান্তিকে মুছে দিয়ে আনে একটুখানি স্বস্তি। কিন্তু সেই মিষ্টি স্বাদের মাঝেই অনেকের মনে জাগে এক অদ্ভুত দ্বিধা তরমুজের বীজ যদি ভুল করে খেয়ে ফেলি, তাহলে কি কোনো ক্ষতি হবে?
শৈশবের নানা গল্প আর ভুল ধারণা আমাদের মনে অযথা ভয় তৈরি করেছে। বাস্তবে তরমুজের বীজ খাওয়া ক্ষতিকর নয়; বরং এটি সহজেই হজম হয়ে যায় অথবা শরীর থেকে স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে যায়।
বরং বিস্ময়কর সত্য হলো, এই ছোট্ট বীজগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে পুষ্টির এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। এতে রয়েছে আয়রন, ফোলেট, নিয়াসিনসহ নানা প্রয়োজনীয় উপাদান, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সচল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে সহায়তা করে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে। ম্যাগনেশিয়াম থাকার কারণে এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
ত্বক ও চুলের যত্নেও তরমুজের বীজের গুরুত্ব রয়েছে। এতে থাকা প্রোটিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বককে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায়, প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং চুলকে করে আরও মজবুত ও প্রাণবন্ত। পাশাপাশি এতে থাকা খনিজ উপাদান হাড় ও পেশির গঠনে ভূমিকা রাখে, যা শরীরকে শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে।
তরমুজ নিজেই প্রায় ৯২ শতাংশ পানিতে ভরপুর, যা শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং গরমে স্বস্তি দেয়। সেই তরমুজের বীজও তাই অবহেলার কিছু নয়; বরং এটি হতে পারে সুস্থতার এক নীরব সহচর।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি পরিমিতিই সুস্থতার চাবিকাঠি। যাঁদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তরমুজের বীজ খাওয়া কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, এমনকি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই সচেতনতা ও পরিমিতি বজায় রাখাই শ্রেয়।
মাতৃভূমির খবর