বিজয় আহমেদ
প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
ছবি: নিজস্ব
ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন, ট্যাব ও ভিডিও গেমের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের মধ্যে নতুন এক ধরনের আসক্তি তৈরি করছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেক অভিভাবক। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার কারণে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাচ্ছে, বাড়ছে মানসিক চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ঘোড়সওয়ারি।
ঢাকার অদূরের গ্রামীণ পরিবেশে ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা একটি হর্স রাইডিং ট্রেনিং একাডেমি দ্রুতই শিশু-কিশোরদের জন্য সুস্থ বিনোদন ও মানসিক বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে অংশগ্রহণকারীরা প্রকৃতির মাঝে ঘোড়ার পিঠে চড়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস ও মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
একাডেমির উদ্যোক্তা জানান, ঘোড়সওয়ারি শুধু বিনোদনের জন্য নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি থেরাপি হিসেবেও কাজ করছে। গবেষণায় দেখা যায়, ঘোড়সওয়ারির সময় শরীরে এন্ডোরফিন ও সেরোটোনিনের মতো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা উদ্বেগ ও বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করে।
বিশ্বজুড়ে অটিজম, সেরিব্রাল পালসি ও বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে ‘ইকুইথেরাপি’ অর্থাৎ ঘোড়ার মাধ্যমে থেরাপি ইতোমধ্যেই স্বীকৃতি পেয়েছে। এতে ওষুধ ছাড়াই রোগীর আচরণ, মনোযোগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে বলে জানা যায়।
প্রশিক্ষণ নিতে আসা শিক্ষার্থীরা জানান, প্রথমদিকে ভয় থাকলেও ধীরে ধীরে ঘোড়ার সঙ্গে তাদের বন্ধন তৈরি হয়। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং মানসিক চাপ কমে যায়। অনেকেই বলেন, আগে অবসর সময় মোবাইলে কাটলেও এখন তারা ঘোড়সওয়ারির অপেক্ষায় থাকেন।
অভিভাবকদের মতে, এই কার্যক্রম শিশুদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং সাহস গড়ে তুলছে। ফলে মোবাইল নির্ভরতা কমে শিশু-কিশোররা এখন বাইরে খেলাধুলা ও বাস্তব অভিজ্ঞতায় বেশি আগ্রহী হচ্ছে।
শখ, খেলাধুলা এবং থেরাপির সমন্বয়ে ঘোড়সওয়ারি এখন শিশু-কিশোরদের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে যেখানে বাস্তব অভিজ্ঞতা কমে যাচ্ছে, সেখানে এই অভিজ্ঞতা তাদের দিচ্ছে মানসিক স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস।
মোবাইল আসক্তির এই সময়ে ঘোড়সওয়ারি হয়ে উঠছে সুস্থ জীবনের নতুন দিগন্ত।
মাতৃভূমির খবর