রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গ্রাহক বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিমে কর কমানোর নতুন উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০৯:৫০ এএম

গ্রাহক বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিমে কর কমানোর নতুন উদ্যোগ

প্রতীকী ছবি

দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন গতি আনতে এবং মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে সিম নিবন্ধনের ওপর আরোপিত কর উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ করের কারণে নতুন গ্রাহক সংযোগে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে নতুন সিম গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে নতুন সংযোগ গ্রহণের আগ্রহ কমে গেছে। ফলে গ্রাহক বৃদ্ধির গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারছে না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতেই কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সিম নিবন্ধনে অতিরিক্ত করের বোঝা থাকলে অনেক মানুষ নতুন সংযোগ নিতে নিরুৎসাহিত হন। অন্যদিকে ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ইন্টারনেটভিত্তিক নানা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়াতে সহজলভ্য মোবাইল সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সিম কর কমানো হলে দেশের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কর কমানো হলে একদিকে যেমন নতুন গ্রাহক সংখ্যা বাড়বে, অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ ও সেবার পরিধিও সম্প্রসারিত হবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ করের হার কিছুটা কমলেও ব্যবহারকারী বৃদ্ধি পেলে সামগ্রিক লেনদেন ও সেবা গ্রহণের পরিমাণ বাড়বে।

খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মোবাইল যোগাযোগ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তাই গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী খরচ নিশ্চিত করতে নীতিগত সহায়তা জরুরি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে প্রযুক্তির আওতায় আনতে নতুন সংযোগ সহজ করা প্রয়োজন।

এদিকে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং আর্থিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে বলে জানা গেছে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী বাজেট বা নতুন নীতিমালার অংশ হিসেবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিম কর কমানোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে সাধারণ গ্রাহকদের ব্যয়ও কিছুটা কমে আসবে, যা প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের পথকে আরও শক্তিশালী করবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!