হাসনাত জিসান
প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
ফাইল ছবি
মহাকাশের অজানা অন্ধকারে আবারও আলো ছড়াল মানবসভ্যতার কৌতূহল। মহাকাশ অনুসন্ধানে নতুন এক ঐতিহাসিক অধ্যায় রচনা করেছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ মিশন। চাঁদের ফ্লাইবাই শেষে পৃথিবীর পথে ফেরার সময় গভীর মহাকাশ থেকে ধারণ করা হয়েছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির এক অপার্থিব দৃশ্য যা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি করেছে আলোড়ন।
৭ এপ্রিল ২০২৬। চাঁদের পাশ দিয়ে ঘুরে (ফ্লাইবাই) পৃথিবীর পথে ফিরছিলেন আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা। সেই মুহূর্তে ওরিয়ন স্পেসক্রাফটের ক্যামেরা যখন ঘুরে দাঁড়ায় অনন্ত মহাশূন্যের দিকে, তখন ধরা পড়ে তারাভরা এক বিশাল ক্যানভাস। ছবিতে মিল্কিওয়ে যেন অন্ধকারের বুক চিরে বয়ে যাওয়া আলোর নদী একটি দৃশ্য, যা পৃথিবীর আকাশে খালি চোখে দেখা সম্ভব নয়।
এই ছবিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, “একদিন আমরা সেখানেই থাকব, তারার মাঝে।” তার এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যেই যেন প্রতিফলিত হয়েছে মানবজাতির সুদূর ভবিষ্যতের স্বপ্ন পৃথিবীর সীমানা পেরিয়ে মহাবিশ্বে বসতি গড়ার আকাঙ্ক্ষা।
উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ দশকের বেশি সময় পর মানুষকে আবার চাঁদের কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে আর্টেমিস-২
অভিযানের মাধ্যমে। সর্বশেষ এমন মানববাহী চন্দ্র ফ্লাইবাই হয়েছিল অ্যাপোলো-১৩ মিশনের সময়। যদিও এবারের অভিযানে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করা হয়নি, তবে এটি ভবিষ্যতে মানুষের চাঁদে প্রত্যাবর্তনের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মিশন শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতারই প্রমাণ নয়, বরং ভবিষ্যৎ গভীর মহাকাশ অভিযানের ভিত্তিকে আরও মজবুত করবে। একই সঙ্গে মহাশূন্য থেকে পাওয়া এমন দৃষ্টিনন্দন ছবিগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যেও নতুন করে মহাকাশ নিয়ে আগ্রহ, বিস্ময় এবং কৌতূহল জাগিয়ে তুলছে। মানুষের চোখ এখন আর শুধু পৃথিবীর আকাশে সীমাবদ্ধ নয় আর্টেমিস-২ যেন সেই অভিযাত্রার আরেকটি উজ্জ্বল দিগন্ত।
মাতৃভূমির খবর