প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, চিকিৎসাসেবার বিকেন্দ্রীকরণ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান সংকট, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে ভাবনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি। তিনি বলেন- “রাষ্ট্র পরিচালনায় দূরদর্শী নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের মৌলিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। স্বাস্থ্য খাতকে জনমুখী ও সবার জন্য সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি। তিনি বলেন- “স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ ও তৃণমূল জনগোষ্ঠীর কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার যে চিন্তা স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে শুরু হয়েছিল, তা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।”
এছাড়া বক্তব্য দেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম এমপি। তিনি বলেন- “জাতির উন্নয়ন ও মানবসম্পদ বিকাশে স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেলাম। তিনি বলেন- “স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা থেকেই ভবিষ্যতের পথরেখা নির্ধারিত হয়।”
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল। তিনি বলেন- “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাস্থ্য ভাবনা, উন্নয়ন দর্শন এবং জনমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণা নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও আলোচনা প্রয়োজন।”
স্বাস্থ্য খাতে দূরদর্শী পরিকল্পনার স্মরণ:
“বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আধুনিকীকরণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বাস্তবতা এবং জিয়াউর রহমানের সময়কার নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে আলোকপাত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা ছিল সীমিত, অবকাঠামো ছিল দুর্বল এবং চিকিৎসক সংকট ছিল প্রকট। এমন বাস্তবতায় স্বাস্থ্যসেবাকে রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক ধারা থেকে বের করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
তারা মনে করেন, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্প্রসারণ, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম জোরদার, টিকাদান কর্মসূচির ভিত্তি শক্তিশালীকরণ, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এবং চিকিৎসা শিক্ষার উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, স্বাস্থ্যসেবাকে শুধু শহরকেন্দ্রিক না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করার যে দর্শন পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার প্রাথমিক রূপরেখা জিয়াউর রহমানের সময়েই দৃশ্যমান হয়।
বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ করণীয়:
আলোচনা সভায় শুধু অতীতের অবদান স্মরণ নয়, বর্তমান স্বাস্থ্য খাতের নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
বক্তারা চিকিৎসক সংকট, জনবল বৈষম্য, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যখাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম, চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তা, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার নিয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশও তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, এসব আলোচনা দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও জনবান্ধব করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
নতুন প্রজন্মের সামনে ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান:
ড্যাব নেতারা মনে করেন, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ পুনর্গঠনের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম আলোচনা হয়েছে। ফলে তরুণ চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের সামনে সেই অধ্যায়কে আরও সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, একজন রাষ্ট্রনায়কের উন্নয়ন দর্শন কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে একটি জাতির স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে, তা অনুধাবনের জন্য এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শ্রদ্ধা, মূল্যায়ন ও ভবিষ্যতের অঙ্গীকার:
বক্তারা বলেন, শাহাদত বার্ষিকীর এই আয়োজন কেবল একজন রাষ্ট্রনায়কের স্মৃতিচারণ নয়; বরং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, মানবিক ও জনমুখী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করারও একটি উপলক্ষ।
স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারক, চিকিৎসক সমাজ, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন পেশাজীবীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ আলোচনা সভা থেকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাষ্ট্রগঠন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ বিনির্মাণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণের মধ্য দিয়ে তাঁর ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকীর এই আয়োজন জাতীয় পরিসরে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।



