রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হামের থাবা কমছেই না, আরও চার শিশুর মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

হামের থাবা কমছেই না, আরও চার শিশুর মৃত্যু

ফাইল ছবি

দেশে হামের সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টার হিসাবে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজার সাতান্ন জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রোগটির উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের পনেরো মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গসহ মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় শত ঊনিশে। অন্যদিকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও তিরানব্বই শিশু। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত হাম এবং হামের উপসর্গজনিত কারণে মোট সাত শত বারো জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

একই সময়ে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে এক শত ষোল জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া নয় শত একচল্লিশ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে গত এক দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার সাতান্নে পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতির অবনতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বাড়ছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আট শত ঊননব্বই শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে আট শত পঁয়ষট্টি জন। তবে নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পনেরো মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে নিরানব্বই হাজার দুই শত সাতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় এগারো হাজার সাত শত দশ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে মোট বিরাশি হাজার আট শত চুয়াল্লিশ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ঊনআশি হাজার এক শত বাহান্ন জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই অভিভাবকদের সন্তানদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে দাগ বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!