প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম—দুই ক্ষেত্র মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪৩ জনে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর কারও মৃত্যুই পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামজনিত হিসেবে চিহ্নিত হয়নি। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪৪। অন্যদিকে, গত ১৫ মার্চ থেকে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ৯৯ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭৭ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষাগারে ৯১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। বাকি ৯৮৬ জন বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
চলমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশে পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ১৮ হাজার ৫৭৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৩৮ জনে।
এই সময়ে হাম ও সংশ্লিষ্ট উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ জন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, শ্বাসকষ্টসহ হামের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



