রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দেশজুড়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু সংক্রমণের শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ১০:২৫ এএম

দেশজুড়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু সংক্রমণের শঙ্কা

প্রতীকী ছবি

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বর্ষাকালে এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে চলতি বছর পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীর বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের বড় সরকারি হাসপাতালগুলো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন শয্যা সংখ্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি ছাড়াও হৃদ্‌রোগ, কিডনি, শ্বাসতন্ত্রসহ বিভিন্ন জটিল অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত অনেক রোগী জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছেন। এর সঙ্গে হাম ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়লেও হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল একই থাকায় চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। একদিকে ডেঙ্গু ও হামের রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে অন্যান্য গুরুতর রোগীদের চিকিৎসাও সমান গুরুত্ব দিয়ে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি হাসপাতাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন শয্যা ধারণক্ষমতার অনেক বেশি রোগী ভর্তি থাকছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে সংক্রমণ আরও বাড়লে বিদ্যমান ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ডেঙ্গুতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটি সংক্রামক রোগ একসঙ্গে বাড়তে থাকলে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে।

কীটতত্ত্ববিদদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রাজধানীর তুলনায় গ্রামাঞ্চল এবং জেলা শহরগুলোতে এডিস মশার বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত বছরের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের ছিল। সে সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং বেশ কয়েকটি অঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের সুপারিশগুলোর অনেকগুলোই পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত অভিযান চালাতে হবে। বাড়ির ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ফুলের টব এবং যেখানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক জরিপে এডিস মশার উপস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছানোর তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংক্রমণের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এডিস মশা দমন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়াতে বিভিন্ন দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। একই সঙ্গে জনগণকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!