রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন নির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন নির্দেশনা

প্রতীকী ছবি

দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন এবং রোগীদের নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর আওতায় প্রতি মাসে চিকিৎসকদের দায়িত্বসূচি সংগ্রহ, আকস্মিক পরিদর্শন এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় দেশের সব সিভিল সার্জনের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, সেবিকা এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ ও উপস্থিতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতিটি পালায় অন্তত পাঁচজন চিকিৎসক উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে ন্যূনতম একজন চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এতে রোগীরা প্রয়োজনের সময় দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং সেবার মানও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জনদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতি মাসে জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের দায়িত্বসূচি সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি কর্মরত চিকিৎসকদের নাম, নিবন্ধন নম্বর এবং যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করে তা যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন হলে আকস্মিকভাবে হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতিও পরীক্ষা করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নির্ধারিত সংখ্যক চিকিৎসক উপস্থিত রাখতে ব্যর্থ হয় অথবা ভুয়া কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করে, তাহলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানাতে হবে।

এ ছাড়া প্রতি মাসের তদারকি কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়মিত মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কেবল কাগজে-কলমে চিকিৎসকের নাম দেখিয়ে হাসপাতাল পরিচালনার প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে রোগীরা নিবন্ধিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের কাছ থেকে সময়মতো সেবা পাবেন। এতে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে এবং সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তারা মনে করছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!