প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
দেশে হামের প্রকোপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে প্রায় এক হাজার মানুষের শরীরে হাম এবং এ রোগের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত একদিনে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে সরাসরি হাম আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪৭ জনে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১২৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৮১৮ জনের মধ্যে হামের মতো উপসর্গ দেখা গেছে। সব মিলিয়ে গত কয়েক মাসে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ৮ হাজার ৯৯৮ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ১৯৮ জনের শরীরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২ হাজার ৩১ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮৮ হাজার ৪১৯ জন রোগী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হামের সংক্রমণ কমাতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের টিকার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
দেশজুড়ে হামের এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ নজরদারি বাড়িয়েছে। তবে প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।



