প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত এক দিনে হামে এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরে এ রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০৩ জনে। একই সময়ে নতুন করে এক হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ও উপসর্গ শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী মিলিয়ে মোট এক হাজার ৩৭ জন নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ১৩৩ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে পরীক্ষায় নিশ্চিত মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১৪ হাজার ৮৪১ জনে পৌঁছেছে।
একই সময়ে আরও ৯০৪ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জনে। এ তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো সংক্রমণের বিস্তার অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন। তাদের মধ্যে ৯৯ হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। তবে এখনো অনেক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে দাগ, কাশি, সর্দি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ ছাড়া সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



