প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়কের নির্দিষ্ট অংশ হকারদের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ কেন আইনগতভাবে বৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানতে চেয়েছেন, ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালার আলোকে ফুটপাত ও রাস্তার অংশ বিশেষ হকারদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না এবং কেন এই নীতিমালাকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
এই রুলের মাধ্যমে মূলত রাজধানীর জনসাধারণের চলাচলের স্থান হিসেবে বিবেচিত ফুটপাত ও রাস্তার ব্যবহার নিয়ে প্রশাসনিক নীতির বৈধতা যাচাইয়ের বিষয়টি সামনে এসেছে। আদালত মনে করছেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার এবং নগর ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
এই বিষয়ে একটি রিট আবেদন করেন অ্যাডভোকেট মো. শোয়েবুজ্জামান। তার করা আবেদনেই ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে প্রণীত হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। রিট আবেদনে দাবি করা হয়, এই নীতিমালার মাধ্যমে ফুটপাত ও সড়কের নির্দিষ্ট অংশ হকারদের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নাগরিক অধিকার ও সংবিধানের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
আদালতের নির্দেশে স্থানীয় সরকার বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রুলের জবাব দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে ফুটপাত দখল ও হকার সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। একদিকে হকারদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতে দীর্ঘদিন ধরেই হকারদের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কখনো উচ্ছেদ অভিযান, আবার কখনো পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। নতুন এই নীতিমালা সেই সমস্যার একটি কাঠামোগত সমাধান হিসেবে প্রস্তাব করা হলেও তা নিয়ে এখন আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, যদি ফুটপাতের একটি অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে হকারদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে তা নাগরিক চলাচলের অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে। অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষকের মতে, হকারদের সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ না করে একটি নিয়মের মধ্যে আনা হলে নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসতে পারে।
এই রুল জারির ফলে এখন নীতিমালার আইনি ভিত্তি, এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং সংবিধানের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে রাজধানীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ কাঠামো।
সব মিলিয়ে, রাজধানীর হকার নীতিমালা নিয়ে উচ্চ আদালতের এই পদক্ষেপ নগর ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিতর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে।



