প্রকাশিত: মে ২১, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের কর্মকাণ্ড তদন্তের দাবিতে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার (২১ মে) শুনানি শেষে এই আদেশ দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকাল নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের সম্ভাবনা আপাতত বন্ধ হয়ে গেল।
জানা গেছে, বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে রিট আবেদনটি খারিজ করেন। এর আগে গত রোববার সংশ্লিষ্ট আদালত শাখায় আবেদনটি দাখিল করা হয়েছিল। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত আদেশ ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান এবং আবেদনকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষে আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে তা খারিজের আদেশ দেন।
রিট আবেদনকারীদের দাবি ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব পালনের সময়ে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নানা ধরনের সংকট ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এ কারণে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে ওই সময়কার কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন জরুরি ছিল। তাদের মতে, নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হলে রাষ্ট্র পরিচালনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও সুসংহত হতো।
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান। তিনি জানান, জনস্বার্থের বিষয় বিবেচনায় এনে এই আবেদন করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় সুশাসন নিশ্চিত করতে অতীতের কার্যক্রম মূল্যায়নের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে আবেদনকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ বলেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের পথ তৈরি করা। কীভাবে তদন্ত হবে কিংবা কারা সেই দায়িত্ব পালন করবে, তা নির্ধারণের বিষয়টি সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথাই আবেদনে উল্লেখ ছিল।
তবে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি তুলে ধরে জানায়, বিষয়টি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে এমন তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নেই। পরে সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে আদালত রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন।
এই আদেশের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচিত আইনি উদ্যোগটির আপাত সমাপ্তি ঘটলেও বিষয়টি রাজনৈতিক ও জনপরিসরে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



