প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ১২:০০ পিএম
দেশে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকা সময়মতো সংগ্রহ না করা এবং এর ফলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর অভিযোগে সাবেক কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। রাজধানীর একটি আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে অভিযোগ করা হয়, টিকা সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রশাসনিক অবহেলার কারণে বহু শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
সোমবার রাজধানীর মহানগর বিচারিক আদালতে এ আবেদন জমা দেন কিশোরগঞ্জের একটি সংসদীয় আসনের প্রতিনিধি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। আবেদনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ মোট পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আবেদন গ্রহণের পর শুনানি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মামলার আবেদনে বলা হয়, দেশে নবজাতক ও শিশুদের সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষায় নিয়মিতভাবে হাম ও রুবেলার প্রতিষেধক প্রদান করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক সহায়তায় এই প্রতিষেধক সংগ্রহের একটি নির্ধারিত ব্যবস্থা কার্যকর ছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন প্রশাসনের সিদ্ধান্তে সেই প্রচলিত পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যায় এবং নতুন প্রক্রিয়ায় টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিলেও তা দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকে। এর ফলেই দেশে প্রতিষেধকের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। টিকা ঘাটতির সম্ভাবনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে চিঠির মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, টিকার ঘাটতির কারণে দেশে হাম রোগের বিস্তার ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছায়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বহু শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুর মৃত্যু ঘটে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাজারো শিশু দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার শিকার হয়েছে বলেও দাবি তোলা হয়েছে।
মামলার নথিতে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অঞ্চলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে।
এদিকে মামলার আবেদনকারী উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা উচ্চপর্যায়ের প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় থানায় অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলা আবেদন করা হয়। আবেদনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্ত শেষে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতের জবাবদিহি, টিকা ব্যবস্থাপনা এবং শিশুস্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, সেদিকেই এখন নজর সবার।



