রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৯, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত

ফাইল ছবি

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় গঠনের বিষয়ে দেওয়া হাইকোর্টের নির্দেশ আপাতত স্থগিত করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত মামলার বিস্তারিত শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ কার্যকর হবে না বলে জানিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে আলাদা সচিবালয় গঠনের যে নির্দেশনা হাইকোর্ট দিয়েছিলেন, তা আপাতত কার্যকর হচ্ছে না।

রাষ্ট্রের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে রিটকারীদের পক্ষে আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সকালে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। গত ২১ মে রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করে। হাইকোর্টের বিস্তারিত রায় প্রকাশিত হয়েছিল চলতি বছরের ৭ এপ্রিল, যা ছিল ১৮৫ পৃষ্ঠার।

পূর্বে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামো ও স্বাধীনতা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়ে রায় প্রদান করেন। ওই রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে থাকা একটি বিধান বাতিল ঘোষণা করা হয়, যেখানে অধস্তন আদালতে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি ও ছুটির বিষয় রাষ্ট্রপতির অধীনে ন্যস্ত ছিল।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে স্বাধীন রাখতে অধস্তন আদালতের বিচারিক দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ২০১৭ সালে প্রণীত বিচার বিভাগীয় শৃঙ্খলাবিধিও বাতিল করা হয়।

আইনজীবীদের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমে নির্বাহী বিভাগের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবের সুযোগ তৈরি হয়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে পারে। রিটকারীরা যুক্তি দেন, বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে পৃথক সচিবালয় গঠন এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে আনা জরুরি।

ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারিক কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। তবে ১৯৭৪ সালের সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে সেই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে চলে যায়। পরবর্তীতে সংশোধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে বিধান যুক্ত করা হয়।

সাম্প্রতিক এই আইনি বিতর্ক বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সাংবিধানিক ব্যাখ্যার প্রশ্নকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আগামী ১৬ জুনের শুনানিতে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এখন নজর রয়েছে আপিল বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে, কারণ এই রায় দেশের বিচার প্রশাসনের কাঠামো ও ক্ষমতার ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!