রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল চ্যালেঞ্জ করে রিট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল চ্যালেঞ্জ করে রিট

ফাইল ছবি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।

সোমবার (১৫ জুন) আদালতে দাখিল করা আবেদনটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে বিষয়টি উপস্থাপিত হবে বলে জানা গেছে।

রিটে শুধু হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তই নয়, বরং ১৯৮২ সালের মেডিকেল প্র্যাকটিস, বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, ওই আইন অনুযায়ীই হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আইনি পর্যালোচনার দাবি রাখে।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুন এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। ওই সময় জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থার মান বজায় রাখার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৭ মে ঈদের আগের দিন হাসপাতালটির পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওয়ার্ডে অস্বাভাবিক ভিড়, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বন্ধ থাকা এবং বিকল্প ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার অভাব—এই সব কারণ মিলিয়ে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট, যা রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা ও জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রশাসনিক পর্যায়ে আরও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন হওয়ায়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে উচ্চ আদালতের রায়ের ওপর।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!