প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
রাজধানীর রামপুরায় জীবন বাঁচাতে নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বহুল আলোচিত এই মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও দুই আসামির বিরুদ্ধে পৃথক সাজা প্রদান করেছেন আদালত।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
রায়ে সাবেক পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের পাশাপাশি রামপুরা অঞ্চলের তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন উপ-পরিদর্শক তারিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে বিশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে, বাকি দণ্ডপ্রাপ্তদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে জানায়, ভুক্তভোগী তরুণ প্রাণভয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশ ধরে ঝুলে ছিলেন। আত্মরক্ষার এমন অসহায় অবস্থায়ও তার ওপর গুলি চালানো হয়, যা ছিল অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক। রাষ্ট্রপক্ষ আরও দাবি করে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথি এবং অন্যান্য আলামত অপরাধ প্রমাণে যথেষ্ট ছিল। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে আমির হোসেন নামে ওই তরুণ কর্মস্থল থেকে স্বজনের বাসায় ফিরছিলেন। পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে তিনি পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। পরে নিরাপত্তার আশায় ভবনের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নিচে পড়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোট পাঁচজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায়কে মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের গ্রেপ্তার এবং রায় কার্যকরের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরবর্তী প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



