রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ

ফাইল ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে করা বিতর্কিত ও অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে এবি পার্টির নেতা ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তার কাছে একশ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তন্ময় কুমার সাহা এই নোটিশ পাঠান। ব্যারিস্টার ফুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছেও নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি ব্যারিস্টার ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনাম, ঐতিহ্য ও মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গত কয়েক দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় অবদানকে অস্বীকার করেছেন এবং বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকদের উদ্দেশে অবমাননাকর ও বিভাজনমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।

নোটিশদাতার দাবি, এ ধরনের বক্তব্য শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদাকেই আঘাত করেনি, বরং দেশের লাখো বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীর অনুভূতিতেও আঘাত হেনেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ কারণে ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামহানির জন্য দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ আরোপের দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করা একশ কোটি টাকা সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিলে জমা দিতে হবে, যাতে অর্থটি শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহু বছর ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনাটি ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হলে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা এবং দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা রক্ষায় আইনগত পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!