রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২৬, ০২:৩২ পিএম

ড. ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

ফাইল ছবি

হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা, আইনগত কর্তব্যে ব্যর্থতা এবং অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগ এনে রাজধানীর একটি আদালতে এ আবেদন করেন এক ভুক্তভোগী অভিভাবক।

রোববার সকালে ঢাকার অতিরিক্ত প্রধান মহানগর হাকিমের আদালতে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মামলার আবেদন জমা দেন। আবেদন গ্রহণের পর আদালত বাদীর বক্তব্য নথিভুক্ত করেন এবং পরবর্তী আদেশের জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত মামলাটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মামলার আবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও তৎকালীন স্বাস্থ্যবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা নুর জাহান বেগম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদীর নয় মাস বয়সী কন্যা জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় শয্যার সংকট, অক্সিজেন সরবরাহের ঘাটতি, চিকিৎসক ও সেবিকাদের পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং সময়মতো যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে সে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে হাম প্রতিরোধী টিকা সরবরাহ ও টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত না হওয়ায় তার সন্তান টিকা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে শিশুটি সংক্রমিত হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারায় বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ এবং জাতীয় টিকাদান কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন। এই অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং অনেক শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

এ ছাড়া সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের জীবন ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলেও আবেদনকারী অভিযোগ করেছেন। দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনগত কর্তব্য পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো আদালতের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে আদালত এখনো মামলাটি গ্রহণের বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি। আবেদনটি বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম। ফলে বিষয়টি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!