রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায় বৃহস্পতিবার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায় বৃহস্পতিবার

প্রতীকী ছবি

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন নিয়ে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে। হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি শেষ হওয়ার পর আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য নির্ধারিত দিন ঘোষণা করেন।

এর আগে গত বছরের ১৩ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল গ্রহণ করে শুনানির অনুমতি দেন আপিল বিভাগ। এরপর বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আইনি আলোচনা চলে।

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন। আদালতের ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সঙ্গে সম্পর্কিত সংশোধনীর দুটি ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয় এবং সেগুলো বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হওয়া কয়েকটি অনুচ্ছেদের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ করে সেগুলো বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আপিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়ে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি পৃথকভাবে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। পাশাপাশি আরও কয়েকজন আবেদনকারী এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেন।

শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে একাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং এর প্রভাব দেশের সাংবিধানিক ব্যবস্থার ওপর পড়েছে।

অন্যদিকে, শুনানিতে আইনজীবীদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, সংবিধানের মৌলিক নীতি ও সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, সংবিধানের পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন।

আইনজীবীরা আরও বলেন, সংশোধনীগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংসদীয় আলোচনার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

এখন আপিল বিভাগের রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত দেশের সাংবিধানিক কাঠামো ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!