রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনাল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৮, ২০২৬, ১০:০১ এএম

ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনাল

ফাইল ছবি

গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে ডিজিএফআই সদর দপ্তরে থাকা যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্রে পরিদর্শনে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যানসহ বিচারক ও প্রসিকিউশন দলের সদস্যরা। শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তাদের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে।

পরিদর্শন দলের নেতৃত্বে থাকবেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। তার সঙ্গে থাকবেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। প্রসিকিউশন দলের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও এ পরিদর্শনে অংশ নেবেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীদেরও নির্ধারিত নিয়মে পরিদর্শনে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে যেসব মামলা বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন, সেসব মামলার প্রমাণ ও ঘটনাপ্রবাহ বোঝার ক্ষেত্রে কথিত গোপন বন্দিশালাগুলো গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রসিকিউশন। সেই কারণেই এসব স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাবের একটি কার্যালয়ে থাকা বিশেষ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন দলের সদস্যরা। ওই সময় তারা স্থাপনাটির ছোট-বড় মোট ২৯টি কক্ষ ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি সেখানে থাকা সাতটি মৃত্যুকক্ষ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেন। এসব কক্ষে বন্দিদের আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ধারণা নেওয়া হয়।

এর আগে ২১ জুলাই প্রধান প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব, ডিজিএফআই ও গোয়েন্দা পুলিশের কথিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাইব্যুনাল-১। আবেদনে এসব স্থানে বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এবার ডিজিএফআই সদর দপ্তরের যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিদর্শনের মাধ্যমে বিচারকরা স্থাপনাটির কাঠামো, কক্ষগুলোর অবস্থান এবং সেখানে বন্দিদের রাখার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিচার চলাকালে অভিযোগগুলোর বাস্তবতা যাচাই এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ মূল্যায়নে এ ধরনের পরিদর্শন সহায়ক হতে পারে।

ট্রাইব্যুনালের এই ধারাবাহিক পরিদর্শন গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে চলমান মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরিদর্শনে পাওয়া তথ্য ও পর্যবেক্ষণ পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!