রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত

জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ১৪ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নেজাম উদ্দীন এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সাখাওয়াত, সোহেল, আল আমিন, সাদ্দাম, উজ্জল, অন্তর ও ফয়জুর। অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চাঁন মিয়া, মো. জিয়ার, শাহ আলম, কাওসার, রিফাত, সুমন ও মোস্তফা। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়ার কথাও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালে মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ইছাহাকের সমর্থক এবং আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল গজারিয়া গ্রামে যায় পুলিশ।

পুলিশের সদস্যরা মোস্তফার বাড়ি শনাক্ত করতে না পেরে স্থানীয় বাসিন্দা মহর আলী ও তাঁর ভাতিজা স্বপন মিয়ার কাছে বাড়িটির অবস্থান জানতে চান। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মহর আলী ও স্বপন মিয়ার ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা—এমন অভিযোগ উঠে মামলার তদন্তে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গান-বাজনার কথা বলে মহর আলী ও স্বপন মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুজনকে হত্যা করে। ঘটনার তিন দিন পর ওই পাটখেত থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত মহর আলী ছিলেন গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে এবং মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তাঁর ভাতিজা স্বপন মিয়া একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার পর স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় ২২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলার বিচারকাজে মোট ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!