প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৬, ০২:৩৮ পিএম
রাজধানীর আদাবরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিএনপি নেতা ইসহাক জোমাদ্দার নিহতের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আলম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আদাবর থানার উপপরিদর্শক মহেশ চন্দ্র সিংহ তাকে মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত ইসহাক জোমাদ্দারের বয়স ছিল ৫০ বছর। তিনি আদাবর থানা এলাকার সাবেক ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর শ্যামলী ক্লাব মাঠের বিপরীত পাশে আন্দোলন চলাকালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইসহাককে দ্রুত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মৃত্যুর ঘটনায় আদাবর থানায় মামলা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় ইসহাক জোমাদ্দার গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং শাহজাহান ওমর জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা ঠেকাতে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন পর্যালোচনা করে শাহজাহান ওমরকে ইসহাক হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন।
এদিকে, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে শাহজাহান ওমরের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি থানায় চলমান মামলার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এবং ঝালকাঠির রাজাপুর থানায় দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে হত্যা, দুর্নীতি ও বিস্ফোরক আইনের অভিযোগসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে বলে আবেদনে জানানো হয়।
ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমর ঝালকাঠি-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
ইসহাক জোমাদ্দার হত্যার মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আদালতের সাম্প্রতিক আদেশের ফলে এখন মামলার তদন্তে তার ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হলো।
তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটির অন্যান্য আসামি ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান করছেন। ইসহাকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, গুলিবর্ষণের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন এবং ঘটনার পেছনে কারও নির্দেশ বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



