প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
বিদায়ের প্রাক্কালে উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্বামী বা স্ত্রীর সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতে ২০২৪ সালের ৩০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছরভিত্তিক সম্পদের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে; পরবর্তী প্রায় আট মাসের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের তুলনামূলক এই বিবরণ প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, অধিকাংশ উপদেষ্টা ও তাদের পরিবারের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনার আলোকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন ও ২০২৫ সালের ৩০ জুনের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ছাড়া উপদেষ্টা পরিষদে মোট ২০ জন উপদেষ্টা রয়েছেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের ৩০ জুন নাগাদ অধিকাংশ উপদেষ্টার মোট সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও কয়েকজনের ক্ষেত্রে সম্পদ কমেছে।
প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মোট সম্পদ ২০২৪ সালে ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা।
সবচেয়ে বেশি
বর্তমান উপদেষ্টাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্পদের মালিক শেখ বশিরউদ্দীন, যিনি বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৯১ কোটি ৬৫ লাখ ৯০ হাজার ৮৯৫ টাকা, যা ২০২৪ সালের ৯১ কোটি ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪২ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সবচেয়ে কম
সাবেক উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমের সম্পদ সবচেয়ে কম। তফসিল ঘোষণার আগে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২০২৫ সালের হিসাবে তার মোট সম্পদ ১২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৯ টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অর্ধেক কমেছে
তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সম্পদ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০২৪ সালে তার সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার ৯২৪ টাকা।
কমেছে আরেকজনের
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমার সম্পদ ১ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪১ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯৬ টাকা।
উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি
শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে তার সম্পদ ছিল ১৮ লাখ ২২ হাজার ৭ টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৯ টাকা। বিবরণীতে বলা হয়েছে, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের কারণে তার নন-ফাইন্যান্সিয়াল সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে।
কম সম্পদের তালিকায়
মাহফুজ আলমের পর কম সম্পদের তালিকায় রয়েছেন আরেক সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ২০২৫ সালের হিসাবে তার সম্পদ ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা। তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সম্পদ ১৪ কোটি ৩১ লাখ ৬৯ হাজার ১০২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৩ টাকা।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ ২০২৪ সালে ৭ কোটি ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭৯৮ টাকা থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে হয়েছে ৭ কোটি ৯৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৬ টাকা।
ড. আসিফ নজরুল
আইন, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সম্পদ ১ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ৪৩৩ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ২৩২ টাকা।
মো. তৌহিদ হোসেন
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সম্পদ ২ কোটি ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ১১ হাজার ১৫৮ টাকা।
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সম্পদ বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার ৭৭৪ টাকা।
আলী ইমাম মজুমদার
খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের সম্পদ ৩ কোটি ৩৭ লাখ ১৫ হাজার ৪২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৪ টাকা।
ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের সম্পদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪৭ লাখ ৪৩ হাজার ৪২২ টাকা।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ; সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সম্পদ বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৩৭ টাকা।
ফারুক ই আজম
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের সম্পদ বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৮ হাজার ৯২৯ টাকা।
ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সম্পদ বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৯২ হাজার ৫৬৪ টাকা।
নূরজাহান বেগম
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সম্পদ বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ২৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৩ টাকা।
ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের সম্পদ ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৮৩ লাখ ১০ হাজার ৫৬৫ টাকা।
ফরিদা আখতার
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার ৬০ টাকা।
শারমীন এস মুরশিদ
মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৯৯ টাকা।
ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ ৯২ হাজার ৯০২ টাকা।
আব্দুল হাফিজ
বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের সম্পদ বেড়ে হয়েছে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩৯ টাকা।
আলী রীয়াজ ও লুৎফে সিদ্দিকী
অধ্যাপক আলী রীয়াজ ২০২৫ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ায় তার তুলনামূলক তথ্য নেই। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী সরকারি সুবিধা গ্রহণ না করায় তার সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
ড. খলিলুর রহমান
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমানের সম্পদ ২০২৪ সালে ছিল ২০ লাখ টাকা ও ৪৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৫০ মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালে তার টাকার পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ২২ লাখ টাকা, তবে ডলারের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে।



