প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস. ওয়াই. রমাদান। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক বন্ধনকে আরও সুসংহত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইতিবাচক মতৈক্যে পৌঁছানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বৈঠকে বলেন, ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান অতীতের মতোই সুস্পষ্ট ও দৃঢ়। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ন্যায়ভিত্তিক ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সবসময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, মানবিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক আইন এবং ন্যায্য অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে বাংলাদেশ বরাবরই ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের দীর্ঘদিনের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ফিলিস্তিনের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।
রাষ্ট্রদূত ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠক বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। দুই দেশই ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে একটি কার্যকর ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।



