প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পাইলট তাৎক্ষণিকভাবে গন্তব্য পরিবর্তন করে উড়োজাহাজটি ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পর উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সবাই নিরাপদে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করা উড়োজাহাজটি আকাশে ওঠার কিছুক্ষণ পরই এর অবতরণ চাকার যান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমস্যা ধরা পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উড্ডয়নের প্রায় পনেরো মিনিট পরও অবতরণ চাকা স্বাভাবিকভাবে গুটিয়ে না যাওয়ায় পাইলট বিষয়টি নিয়ন্ত্রণকক্ষকে অবহিত করেন এবং জরুরি অবতরণের অনুমতি চান।
জরুরি অবতরণের আগে নিরাপত্তাজনিত নিয়ম অনুসারে উড়োজাহাজটি প্রায় চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ মিনিট আকাশে অবস্থান করে অতিরিক্ত জ্বালানি কমিয়ে আনে। একই সময়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্নিনির্বাপণ, চিকিৎসা ও উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। পরে দক্ষতার সঙ্গে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।
ওই উড়োজাহাজে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও যাত্রী হিসেবে ছিলেন। ঘটনার বিষয়ে তিনি জানান, উড্ডয়নের কিছু সময় পরই যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত হয়। পাইলট একাধিকবার অবতরণ চাকা স্বাভাবিক অবস্থায় নেওয়ার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। পরে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পাইলটের সিদ্ধান্ত ছিল সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল। তবে উড়োজাহাজের ভেতরে অনেক যাত্রী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিশেষ করে শিশুদের কান্না এবং স্বজনদের উৎকণ্ঠা পুরো পরিবেশকে আরও আবেগঘন করে তোলে। নিরাপদে অবতরণের পর যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন।
হুমায়ুন কবির মনে করেন, যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত পুরোনো উড়োজাহাজগুলোর কারিগরি সক্ষমতা আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তার মতে, আকাশপথে যাত্রী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয়। নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এ ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
ঘটনার বিষয়ে উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য না দিলেও সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উড়োজাহাজটি ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে প্রকৌশলীরা ত্রুটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক উড়োজাহাজে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। প্রশিক্ষিত চালকদলের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রস্তুতির কারণেই এ ধরনের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে ভবিষ্যতে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত কারিগরি তদারকি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।



