রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মজুদ পর্যাপ্ত, আতঙ্ক ছড়াবেন না: জ্বালানি বিভাগের বার্তা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম

মজুদ পর্যাপ্ত, আতঙ্ক ছড়াবেন না: জ্বালানি বিভাগের বার্তা

ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশে জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকট নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, নিয়মিত তেল আমদানি অব্যাহত থাকায় বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের একটি বন্দরে জাহাজ থেকে জ্বালানি তেল খালাসের কাজ চলছে। এছাড়া আগামী সোমবার আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের বড় অংশই দেশে উৎপাদিত হয়। ফলে এই দুই ধরনের জ্বালানি নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে তেলের সংকট ও দাম বাড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ায় গত কয়েকদিন ধরে পেট্রোলপাম্পগুলোতে ক্রেতার চাপ বেড়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিতে দেখা গেছে গাড়িচালকদের। শনিবার অনেক স্থানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং দুপুরের পর কিছু পাম্পে সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটে।

বিপিসির কর্মকর্তাদের মতে, মূলত আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা এবং বেশি মুনাফার আশায় কিছু ব্যবসায়ীর মজুত করার কারণে কৃত্রিম সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে নাটোরের সিংড়ায় বাঁশঝাড়ের নিচে প্রায় ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত রাখার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, চলতি মাসে মোট ১৪টি তেলবাহী কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ইতোমধ্যে পৌঁছেছে এবং বাকিগুলো পথে রয়েছে। আগামী মাসে ১৫টি কার্গোর মধ্যে ১৩টির সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে, বাকি দুটি কার্গো মে মাসে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও তেল পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, চীনা জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা না থাকায় সরবরাহে বড় কোনো বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই।

এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ৫০ দিনের চাহিদা পূরণের মতো ফার্নেস অয়েলের মজুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ইস্টার্ন রিফাইনারির এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের পেট্রোল মূলত গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া উপজাত কনডেনসেট পরিশোধনের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। অনেক সময় এই উৎপাদনের পরিমাণ দেশের চাহিদার চেয়েও বেশি হয়ে যায়। কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত পেট্রোলের সঙ্গে আমদানি করা অকটেন বুস্টার মিশিয়ে অকটেন তৈরি করা হয়।

দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেনসহ প্রায় ৪০ ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন। অন্যদিকে দেশে পেট্রোল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আতঙ্কের কারণে সাময়িকভাবে তেলের চাহিদা বেড়ে গেলেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে আসবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!