প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
দেশের বিদ্যুৎ খাতে সেবার মান উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা সহজ করা এবং বিল আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদনের দায়িত্ব সরকারের হাতে থাকলেও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম ধাপে ধাপে বেসরকারি খাতের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর’ শীর্ষক এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। তাঁর মতে, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহের দায়িত্ব পালন করতে পারে, তবে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া এবং বিল ব্যবস্থাপনা পরিচালনায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অধিক দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম।
মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে নীতিগতভাবে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও ইতিবাচক মত পাওয়া গেছে। ফলে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিতরণ খাতে ধাপে ধাপে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে সেবার মান বৃদ্ধি, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং বিল আদায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সরকার আশা করছে।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম সফলভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশের বড় বড় নগরীতেও এই ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। একই ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশেও সফল হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হলে গ্রাহকসেবার মান যেমন বাড়বে, তেমনি খাতটির সামগ্রিক দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে।
শুধু বিদ্যুৎ নয়, জ্বালানি খাতের অন্যান্য ক্ষেত্রেও বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়ানোর পক্ষে মত দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পেট্রোলিয়ামজাত জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়া হলে বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে এবং সরকারের ওপর আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ কমবে। একই সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে বলেও তিনি মনে করেন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের স্বার্থ, সেবার মান, মূল্য নির্ধারণ, জবাবদিহি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নীতিমালা ও শক্তিশালী তদারকি ছাড়া এ ধরনের পরিবর্তনের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সরকার যদি বিদ্যুৎ বিতরণ খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, তাহলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা ঘোষণার পরই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।



