প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ১২:০০ এএম
ডিজিটাল জালিয়াতি ও বৈশ্বিক প্রতারণা মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিগত সমাধান এবং দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক প্রতারণা সম্মেলন দুই হাজার ছাব্বিশে “বৈশ্বিক প্রতারণা মোকাবিলা ব্যবস্থা” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বাংলাদেশে ডিজিটাল প্রতারণা, বহুতল বিপণনভিত্তিক অর্থসংগ্রহ পদ্ধতি এবং করপোরেট দুর্নীতির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দুই হাজার ছয় থেকে দুই হাজার একুশ সালের মধ্যে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে দেশে আনুমানিক একুশ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনলাইন বাণিজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও উদ্বেগজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক আর্থিক সততা সংস্থার এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী দুই হাজার নয় থেকে দুই হাজার আঠারো সালের মধ্যে বাণিজ্যের আড়ালে প্রতি বছর গড়ে প্রায় আট দশমিক দুই সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে।
তিনি বলেন, আধুনিক আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় পুরোনো আইনি কাঠামো যথেষ্ট নয়। এ কারণে প্রচলিত দণ্ডবিধি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বৈশ্বিক প্রতারণা প্রতিরোধে তিনি চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রতারণার নতুন কৌশল সম্পর্কে গবেষণা জোরদার করা এবং তথ্য আদান–প্রদান বৃদ্ধি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা এবং বিচারিক কাঠামো ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বাড়িয়ে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আর্থিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। তবে এ ধরনের অপরাধ আন্তর্জাতিক সীমা অতিক্রম করে ঘটায় কার্যকরভাবে প্রতিরোধে দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের ফাঁকে আগামীকাল যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তার একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



