প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
বাংলাদেশে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতি স্বাধীনভাবে পালন করবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ধর্ম, বর্ণ, নৃগোষ্ঠী কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেকেই সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। জাতীয় পরিচয়ের জায়গায় সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পলাশী মোড় থেকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির অনুসারী হলেও নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার সমান। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী এবং নৃগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুযায়ী জীবনযাপন করবেন। প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করার সুযোগ পাবেন—এটাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, দেশের সংবিধানে সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মচর্চার অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে তার ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার করা যাবে না। প্রত্যেক সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টিও রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সংবিধানের পাতায় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাম্যের কথা লেখা থাকলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এসব অধিকার বাস্তব জীবনেও কার্যকর করতে হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে নিরাপদ পরিবেশে নিজের ধর্ম পালন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি।
তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতিকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ধর্মীয় পরিচয় মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সংস্কৃতির অংশ হলেও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই সমান। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে আলাদা করে দেখার পরিবর্তে নাগরিক অধিকারের ভিত্তিতে সবাইকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ভোট হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা ছিল। তিনি এ ধরনের চিন্তাভাবনার সমালোচনা করে বলেন, কোনো সম্প্রদায়ের মানুষকে রাজনৈতিকভাবে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে বেঁধে দেখার সুযোগ নেই। প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব মত, অধিকার ও রাজনৈতিক পছন্দ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজন তৈরি না করে জাতীয় স্বার্থকে সামনে রাখতে হবে। দেশের সব মানুষকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের অধীনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নিজেকে আলাদা বা সংখ্যালঘু হিসেবে ভাবার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেকেই এই রাষ্ট্রের সমান অধিকারভুক্ত নাগরিক। নাগরিক হিসেবে নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাওয়ার অধিকার সবার সমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় সবার আগে। এরপর মানুষের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় থাকতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী হবে।
জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রাকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি দেশের সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মান ও সহনশীলতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই অধিকার বাস্তবায়ন করা গেলে সামাজিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হবে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থাও বাড়বে।



