রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দুই হাত তুলে দোয়া জামায়াত আমিরের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দুই হাত তুলে দোয়া জামায়াত আমিরের

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য দুই হাত তুলে দোয়া করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে র‌্যাব বিলুপ্তির পর জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে নতুন কোনো বিশেষায়িত বাহিনী গঠনে বিরোধী দল বাধা দেবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও যথাযথ যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘এসআরবি বিল ২০২৬’ নিয়ে আলোচনার সময় এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি সংসদের সভাপতিত্বকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রশংসা করেন। এরপর বিলটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ইতিবাচক অবস্থানের প্রশংসা করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদারতার প্রশংসা করতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাবকে তিনি স্বাগত জানান। একপর্যায়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য দুই হাত তুলে মোনাজাতের ভঙ্গিতে দোয়া করেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হৃদয় যেন আরও প্রশস্ত হয় এবং জাতির স্বার্থে তিনি যেন আরও উদারভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

তবে বক্তব্যের মূল অংশে তিনি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে বিরোধী দলের অবস্থান তুলে ধরেন। শফিকুর রহমান বলেন, দেশের স্বার্থে যদি কোনো বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের প্রয়োজন হয়, তাহলে বিরোধী দল তার বিরোধিতা করবে না। তবে সিদ্ধান্তটি যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই ও আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে মানুষের মধ্যে যে ভয় ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, সেটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। পুরোনো অভিজ্ঞতার কারণে নতুন কোনো বাহিনী গঠনের বিষয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

র‌্যাবের অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের কথাও সংসদে উল্লেখ করেন। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের কিছু ঘটনা মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এসব ঘটনার কারণে শুধু রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও দীর্ঘস্থায়ী ভয় ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি তাড়াহুড়ো করে পাস না করে প্রয়োজনে আরও সময় নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা যেতে পারে। তিনি বাস্তব পরিস্থিতি, অভিজ্ঞতা ও দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আইনটি আরও যাচাই করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার পর একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে সংসদে আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

বক্তব্যে অতীতে নিখোঁজ ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের পরিবারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ভয় ও মানসিক আঘাতের প্রভাব পরিবারের সদস্যদের ওপর থেকেও যায়। এ ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের আইন ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সংসদে মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। অতীতে যারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় রেখেই ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ হাসিমুখে প্রতিক্রিয়া জানান। পরে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে প্রকাশিত আবেগ ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

সংসদে এ আলোচনার মধ্য দিয়ে একদিকে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে বিরোধী দলের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে অতীতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিলটি নিয়ে পরবর্তী আলোচনায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আরও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!